
প্রায় এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার দিল আফরোজ। ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকে একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যে মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের অর্থ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দিল আফরোজ সভাপতি থাকাকালে সরকারি টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় বা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছ, তা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে নিজেদের কাছে রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যায়ের জমি ও পুকুর লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোন প্রক্রিয়ায়, কার অনুমোদনে এবং কী শর্তে এসব সম্পত্তি লিজ দেওয় হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। লিজের অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন দিল আফরোজ। বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে পুকুর এবং জমি আছে কি না, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে অন্য শিক্ষকদের কোনো অভিযোগ নেই।”
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিদ্যালয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলা ও চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই বলব না। আপনারা যা পারেন লেখেন।”
অভিযোগের বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহের আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব, ক্যাশবুক, ভাউচার, টিউশন ফি-সংক্রান্ত নথি, পরিচালনা কমিটির সভার কার্যবিবরণী এবং জমি-পুকুর লিজের চুক্তিপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।