
আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের শেষে রংপুরের শস্যভান্ডারখ্যাত কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। সোনালি ফসলের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই মাঠে মাঠে কৃষকের কর্মমুখরতায় এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন মৌসুমকে সামনে রেখে বিভিন্ন গ্রামে বীজতলা থেকে চারা তোলা, জমি চাষ দেওয়া, ধান লাগানোসহ নানা কাজে কিষান-কিষানি ও কৃষি শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কে কার আগে চারা রোপণ শেষ করতে পারবেন, তা নিয়ে চলছে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।
পশ্চিম নিজপাড়া গ্রামের কৃষক প্রহলাদ চন্দ্র জানান, বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদে সেচ, কীটনাশক, বীজ কেনাসহ নানা খাতে উৎপাদন ব্যায় বেশি পড়ে। রোপা আমন চাষে সেচ খরচ নেই, বৃষ্টির কারণে কীটনাশকেরও তেমন প্রয়োজন পড়ে না, নিড়ানি খরচ অনেক কম। এ কারণে কৃষক বর্ষা মৌসুমে রোপা আমন ধানের চাষ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
গদাই গ্রামের চাষি ফুল মিয়া জানান চলতি মৌসুমে আগে ভাগেই বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে বৃষ্টির পানি দিয়েই আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করে চাষিরা। মাঠে মাঠে কাদায় নেমে নিপুণ হাতে সারিবদ্ধভাবে চলছে ধান রোপণের কাজ। রোপা আমন ধানের জমি প্রস্তুত, পরিচর্যায় নানামুখী কর্মযজ্ঞে স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দিনমজুর শ্রমিকেরাও বাড়তি উপার্জনের আশায় দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন।
অনেক কৃষক অভিযোগ কওে বলেন এবার রাসায়নিক সারের সংকট দেখা দিয়েছে, সরকারী মূল্যেও চেয়ে অনেক বেশী দামে তাদেও সার কিনতে হচ্ছে। সার নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছে কৃষকেরা। তারপর ও তারা স্বপ্ন দেখছেন প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে রোপা আমন আবাদে কৃষকের জন্য লাভজনক হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ১১হাজার ৪শত ৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জন হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সালাউদ্দিন জানান, রোপা আমন চাষকে লাভজনক ও সফল করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।