
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মেরিজ তাস খেলার একটি স্থানে উপস্থিতি নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা জুয়া খেলার অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় যুবশক্তির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও রাজ্জাক রাজের বক্তব্য গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বটতলা বাজারসংলগ্ন একটি ছ’মিলের পেছনের ঘটনা এটি।
আব্দুর রাজ্জাক রাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেরিজ তাস খেলছিলেন। এ সময় হঠাৎ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিন্তু তিনি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ তাঁকে দেখতে পায়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব তাঁকে জানান, এলাকাটি তাঁর হওয়ায় সেখানে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের খেলা না হয়, সে বিষয়ে যেন থানায় একটি লিখিত অঙ্গীকার বা মুচলেকা দেওয়া হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদেই তিনি থানায় গিয়ে মুচলেকা দেন।
রাজ বলেন, কোনো স্থানে উপস্থিত থাকা আর জুয়া খেলায় অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। স্থানীয় ছেলেরা দুপুরবেলা সময় কাটানোর জন্য বিনোদন হিসেবে তাস খেলছিল। পুলিশ আসার পর সবাই দৌড়ে চলে যায়, আর আমি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ আমাকে দেখে। পরে এলাকাটি আমার হওয়ায় ভবিষ্যতে যেন আর খেলা না হয়, সে বিষয়ে থানায় মুচলেকা দিতে বলা হয়। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তা করেছি। কিন্তু এখন একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অপপ্রচার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদার জন্য হানিকর উল্লেখ করে তিনি প্রকৃত সত্য যাচাই না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান।
ঘটনাটির বিষয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট ও ইতিবাচক। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সেদিন তাঁদের একটি টিম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিল। সে সময় সেখানে মেরিজ খেলার একটি আসর বসা অবস্থায় দেখা যায় এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই পালিয়ে গেলেও রাজ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধান বলেন, তদন্ত করে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে তথ্য নিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে আব্দুর রাজ্জাক রাজ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবে বা কারও সুপারিশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পুলিশি আইন ও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যেকোনো নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা যেতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে তিনি অভিযুক্ত বা অপরাধী। একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে কখনো বিনা কারণে ফাঁসানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়দের মূল্যায়ন: ‘রাজ ভালো ছেলে, আগে কখনো এমন রেকর্ড নেই’
ঘটনাটির বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা আব্দুর রাজ্জাক রাজের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানান। স্থানীয়রা জানান, রাজ একজন ভালো ও সামাজিক মানুষ। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে কখনো এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা খারাপ কোনো রেকর্ড ছিল না।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নিছক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে তাঁকে জড়িয়ে যে গুঞ্জন বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর মতো একজন ভালো মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অন্য একটি অংশের দাবি, ওই এলাকায় অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যগতভাবে মেরিজ তাস খেলা হয়, যেখানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয় না। তবে ভিন্ন একটি পক্ষের দাবি, সেখানে নাকি টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসত। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সামগ্রিক এই ঘটনায় পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নেতার স্পষ্ট বক্তব্য থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, রাজ্জাক রাজ জুয়া খেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং নিছক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, যার অবসান ঘটেছে পুলিশের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপে।