
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৬:১৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এ সময় আরাফাতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবোঝাই একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আরাফাতকে উদ্ধার করে বরিশালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
আরাফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়ক অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ করেন।
এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে; আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে ফুটপাত চালু করতে হবে।
এর পর রোববার রাত ১০:৩০ এর দিকে আরাফাতের মৃত্যুরর
খবর শোনার পর তৎক্ষনাৎ ভিসি দপ্তরে তালা জুলিয়ে আবার আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা, আবার শুরু করে সড়ক অবরোধ। রাতেই প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
আরাফাতের গায়েবানা জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা তার স্মরণে শোক প্রকাশ করেন। এবং দাবি আদায় না হওয়ায় আবার কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে শিক্ষার্থী।