Admin1234@
৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার কয়লা উন্মুক্ত খননের চিন্তা সরকারের

দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়াতে বড়পুকুরিয়া খনির উত্তর ও দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমীক্ষা ও প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) হিসাবে, দুই অংশ থেকে প্রায় ১৭ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন উত্তোলন করা গেলে ২৮ থেকে ৩০ বছর কয়লা উৎপাদন চালানো সম্ভব হতে পারে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় খনির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরে বিসিএমসিএল। সেখানে গত ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানানো হয়। বিদ্যমান ও নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি কমিয়ে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের চিন্তা থেকেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুই যুগ ধরে উত্তোলন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক ও সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের কয়লা সম্পদের বড় অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। পাঁচটি কয়লাখনির মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কয়লা সেখানকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হলেও কেন্দ্রটি প্রায়ই বন্ধ থাকছে। এ অবস্থায় বর্তমান ভূগর্ভস্থ পদ্ধতির পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত খননের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

বিসিএমসিএলের তথ্য অনুযায়ী, খনির উত্তরাংশের আয়তন ২ দশমিক ৮১ এবং দক্ষিণাংশের আয়তন ২ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার। দুই অংশ মিলিয়ে সম্ভাব্য উন্মুক্ত খনন এলাকার আয়তন ৫ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার। উত্তরাংশে মজুত ১৩ কোটি ৫০ লাখ এবং দক্ষিণাংশে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন কয়লা। মোট ১৮ কোটি ৯০ লাখ টন মজুদের ৯০ শতাংশ উত্তোলন করা যাবে ধরে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টন।

কোম্পানির উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, দুই অংশে কয়লার স্তর প্রায় ১১৮ থেকে ২৫৬ মিটার গভীরতায় রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে মোট মজুদের মাত্র ১০-১২ শতাংশ উত্তোলন সম্ভব হতে পারে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরাংশে কয়লার তুলনায় ওপরের মাটি অপসারণের অনুপাত ৩ দশমিক ৩:১ এবং দক্ষিণাংশে ৬ দশমিক ৩:১। কোম্পানির মতে, এ অনুপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কম হতে পারে। দুর্ঘটনা ও খননঝুঁকিও তুলনামূলক কম। আর দেশীয় ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। পাশাপাশি কাওলিন, ক্লে ও সিলিকা স্যান্ড পাওয়া যেতে পারে, যা সিরামিক, মৃৎশিল্প ও কাচশিল্পে ব্যবহারযোগ্য।

২০১৪ সালে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সমীক্ষায় পাম্পিং ও আংশিক প্রতিবন্ধক ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিস্তারিত কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জন টি বয়েড পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার সুপারিশ করে। ২০১৯ সালে জার্মান বিশেষজ্ঞ ড. থমাস ভন স্কয়ার্জনবার্গও উন্মুক্ত খননের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ করেন। সমীক্ষার অনুমোদন চেয়ে ২০২৩ সালে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০২৫ সালেও সমীক্ষার নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়। সর্বশেষ ২ জুলাই ২০২৬ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পত্র পাঠায় পেট্রোবাংলা। এতে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শসংক্রান্ত বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে নীতিগত অনুমোদন ও দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়।

২০২৭ সালের পর উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন

বড়পুকুরিয়ার কেন্দ্রীয় অংশে ভূতাত্ত্বিক মজুত ২২ কোটি ১০ লাখ টন। ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার টন। রিকভারি রেট ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১০ লাখ টন।

চলমান চুক্তিতে ৪৫ লাখ টন উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার টন উত্তোলন হয়েছে। কোম্পানির হিসাবে, বাকি রয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার টন। পেট্রোবাংলার কমিটি অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন উত্তোলনের সুপারিশ করেছে। অনুমোদন পেলে মোট ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার টন উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৭। এরপর আবারও চীনা কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের দলিল তৈরির কাজও চলছে। তবে উপস্থাপনায় আশঙ্কা করা হয়েছে, ২০২৭ সালের পর কেন্দ্রীয় অংশে উত্তোলনযোগ্য মজুত না থাকায় নতুন অংশে উৎপাদন শুরুর পূর্ব পর্যন্ত খনি বন্ধ থাকতে পারে।

অন্য খনিতেও সমীক্ষার পরিকল্পনা

বড়পুকুরিয়া ছাড়াও অন্য কয়লাক্ষেত্রেও সমীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জামালগঞ্জের উত্তর-পশ্চিমের ১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বছরে ২০ লাখ টন করে ৩০ বছরে ৬ কোটি টন উত্তোলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৩০ মাসের প্রাথমিক সমীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে। খালাসপীরে একই উৎপাদন লক্ষ্যে ৪৮ মাসের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব রয়েছে। দীঘিপাড়ায় বছরে ৩০ লাখ টন করে ৩০ বছরে ৯ কোটি টন উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫২ বছর ধরে এক টাকায় পড়ানো শিক্ষক লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

১

রংপুরে ২১ কেজি ওজনের পাথরের কালী মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ১

২

৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

৩

‘ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি, ঘুষ খাব না তো কি বায়তুল মোকাররমের ইমাম হব?’

৪

শিক্ষক দিবসে শিক্ষার্থীদের ফুল গ্রহণ, কিছুক্ষণ পরই প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

৫

পীরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জুয়েল রানা

৬

স্বেচ্ছায় থানায় গিয়ে যুবক বললেন, ‘মাদক আমার জীবন ধ্বংস করেছে, আমাকে জেল দিন’

৭

দিনাজপুরে চালককে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই

৮

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের

৯

নিজের ক’বর খুঁড়ে মৃ’ত্যুর অপেক্ষায় ঝিনাইদহের আব্দুর রহিম

১০

তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামল ২০ ডিগ্রিতে

১১

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার কয়লা উন্মুক্ত খননের চিন্তা সরকারের

১২

মসজিদে জমি দানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছেলে, বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগ

১৩

প্রবাসীর ঘর থেকে আটকের পর পুলিশের এসআই প্রত্যাহার

১৪

রংপুরের কাউনিয়ার প্রেমিকার অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেফতার

১৫

১০ বছরের সম্পর্কে ইতি, প্রীতম ও শাহতাজের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা

১৬

সৈয়দপুরে লাল পতাকা টাঙিয়ে রেলওয়ের ভবন দখলের চেষ্টা

১৭

অবশেষে নিয়োগ পাচ্ছেন বসতভিটা না থাকা সেই যুবক, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

১৮

বিভিন্ন মাদক মিশিয়ে বানানো ‘ঝাক্কাস’ সেবনে তরুণের মৃত্যু, ৪ জন হাসপাতালে

১৯

কাউনিয়ায় মধ্য নিজপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির (ভাসমান)ওয়াল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন 

২০