
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের আরেক গ্রামে অসুস্থ গরু জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মাংস কাটার পর সাতজনের শরীরে দেখা দিয়েছে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গও। প্রথম দিকে বিষয়টি গোপন থাকলেও একের পর এক হাতে ফোসকা পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।
জানা যায়, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নিজাম খাঁ গ্রামের মাইদুল ইসলামের একটি বকনা গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নরেশ চন্দ্র বর্মণকে ডেকে আনা হয়।গোয়াল ঘরে পড়ে থাকা গরুটির তাপমাত্রা ছিল ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। গরুটি বাঁচতে পারে, আবার নাও বাঁচতে পারে; চিকিৎসক এই কথা বলার পর তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জবাই করা হয়। মাংস কাটতে অংশ নেন মাইদুলের বাবা আতের আলী ও স্ত্রী নয়নতারাসহ কয়েকজন নারী-পুরুষ। পরে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম করে ৪৮ ভাগ করা হয় সেই মাংস। প্রতি ভাগ বিক্রি করা হয় ১ হাজার টাকায়।
এর চারদিন পর মাইদুলের বাবা আতের আলী, স্ত্রী নয়ন ও আব্দুল মজিদের স্ত্রী জামেনা বেগমের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ দেখা যায়। পরে একে একে আক্রান্ত হন গাজীউর রহমানের ছেলে আবু রায়হান বিদেশি (১৮), ছলিম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম (৪০), ইব্রাহিমের স্ত্রী আইরিন (৩৫) ও ঘগোয়া গ্রামের হুমায়ুনের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৫)।
এদের মধ্যে ইব্রাহিম, আইরিন, জামেনা ও আবু রায়হান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘগোয়া গ্রামের নাসিমা বেগমের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের তলায় ফোসকা পড়েছে। উঁকি দিচ্ছে আরেকটি ফোসকা। কিন্তু কোনো চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে থাকা মলম ব্যবহার করছেন তিনি।
নাসিমা বলেন, ‘গরুটি স্ট্রোক করেছিল বলে মাংস নিতে বলেছিল মাইদুল। ১০০০ টাকার ভাগ নেই। সেই মাংস নাড়াচাড়া করতে গিয়ে এই অবস্থা।’
এ নিয়ে গরুর মালিক মাইদুলপল্লী চিকিৎসক নরেশকে ডেকে আনলে গরুটির তাপমাত্রা অত্যধিক বলে জানতে পারি। তিনি গোয়াল ঘর থেকে বের হলে গরুটি জবাই করি। আমিও কয়েক ভাগ নেই। চারদিন পর প্রথমে বাবা ও পরে স্ত্রীর হাতে অ্যানথ্রাক্স দেখা দিলে বাকি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলি।’
এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক নরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমাকে ডাকা হলে গোয়াল ঘরে পড়ে থাকা গরুটির তাপমাত্রা দেখি ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। গরুটি বাঁচতে পারে, আবার নাও বাঁচতে পারে বলে আমি চলে আসি।’
কারও শরীরে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে আসা হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশাকরি, তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।