
জনডাক এ সংবাদ প্রকাশের পর সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখার আলোচিত ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। রোববার ওই কমিটি শাখায় সরেজমিনে তদন্ত করার পর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি পীরগাছা শাখা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যেই ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় গিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনালী ব্যাংক পীরগাছা শাখার এসপিও ইকবাল বাহার।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য ছিলেন পিও আতিকুল ইসলাম। ওই কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী শাখায় অবস্থান করে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গ্রাহক ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার, ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত, বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন কয়েকজন গ্রাহক।
ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানান কয়েকজন গ্রাহক। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সোনালী ব্যাংকের এজিএম ম্যানেজার, আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। এই উপজেলার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করেন। আমি এই উপজেলার বড় কর্মকর্তা। আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে।’
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।