
প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু সাজিয়ে জাল জন্মসনদের মাধ্যমে জামিন গ্রহণ, আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটির অভিযোগে গাইবান্ধায় আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গাইবান্ধা শিশু আদালত-২ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ আদেশ দেন। গোবিন্দগঞ্জ থানায় এ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপন, তার মহুরি এবং গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে হ্যাকিং ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামের চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের মুক্ত করতে তাদের স্বজনরা আইনজীবী শেফাউল ইসলামের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ ওঠে, আইনজীবী শেফাউল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে এনামুল হক নামের এক বিবাহিত যুবকসহ প্রাপ্তবয়স্কদের নাবালক প্রমাণের জন্য জাল জন্মসনদ ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন।
পরবর্তীতে তিনি কোর্টের জিআরও এবং মহুরির যোগসাজশে আদালতের মূল নথি গায়েব ও আদেশের তথ্য কাটাকাটি করে তিনটি মামলায় আসামিদের শিশু হিসেবে জামিন করিয়ে নেন।
বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সারোয়ার হোসেন ও মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া জামিন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত ঘটনাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে।
গত ১৯ আগস্ট দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা মেলে। তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলামের সনদ বাতিল, মহুরির নিবন্ধন বাতিল এবং পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি থানায় পৌঁছেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।