
রংপুরের মিঠাপুকুরে সার সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভিড় ও ভোগান্তি। উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাটসহ বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্রে সকাল থেকেই কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক কৃষক সময়মতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুকুরের হাট এলাকার এনবি ট্রেডিংসহ কয়েকটি ডিলার পয়েন্টে সার নিতে কৃষকদের উপচে পড়া ভিড়। একই চিত্র দেখা গেছে ফকিরহাট এলাকার উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টেও।
শুকুরের হাটের এনবি ট্রেডিংয়ে সার নিতে আসা কৃষক দেলোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন জানান, সকাল ৯টার দিকে সার নিতে এসে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা সার পাননি। একই এলাকার কৃষক আজকার আলী বলেন, “সকাল ৮টায় এসেছি, এখন দুপুর ১টা বাজে, তবুও সার পাইনি।”
ময়েনপুর ইউনিয়নের কৃষক ইয়াছিন আলী ও রোকনুজ্জামান কিনু অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজনের সময় কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। অথচ সন্ধ্যার পর ভ্যানে করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে কিছু মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সার নিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে প্রকৃত কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ফকিরহাট এলাকার কৃষক আব্দুর রউফ, আলামিন, নূরুল ইসলামসহ অনেকে জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তারা সার সংগ্রহ করতে পারছেন না।
তবে শুকুরের হাট এলাকার বিসিআইসি ডিলার কোরবান আলী কিনু জানান, তাদের বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, “যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই বাইরে থেকে সার সংগ্রহ করতে হয়। এ কারণে অনেক সময় সরকারি দামের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”
অন্যদিকে ফকিরহাট এলাকার বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে পয়েন্ট খোলা পাওয়া যায় না। কোনো দিন ডিলার সময়মতো আসেন, আবার কোনো দিন আসেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ওই পয়েন্টে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায় এক বছর আগে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অফিসের একজন কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তবে মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সার নেই এমন কোনো বিষয় নয়, এটি গুজব। একই সময়ে অনেক কৃষক জমিতে সার প্রয়োগ করায় কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং সবাই সার পাবেন।
কৃষকদের দাবি, আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষাবাদের জন্য সময়মতো সার পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সার নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।