
জহির রায়হান , কাউনিয়া (রংপুর) দরিদ্র ঘরে জন্ম ফাতিন হাসনাত পরশের। নতুন বই কিনে পড়ালেখা করতে পারেনি সে। ভাগ্যে জোটেনি ঠিক মতো নতুন জামা কাপড়। দরিদ্র্যতা আর নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার ফলাফলে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকা বাসী অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেও সে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে কী না সেই চিন্তায় তার পিতা-মাতার চোখে উদ্বেগ। ছেলের ফলাফলে পিতা আজাদুল ইসলাম আনন্দিত হলেও চোখে মুখে ফুটে উঠেছে তার অসহায়ত্ব।
উপজেলার শাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী মোঃ আজাদুল ইসলাম ও গৃহিনী মোছাঃ পারুল আক্তারের পুত্র পরশ। বাড়ি ভিটার ২শতক জমি ছাড়া আর কোন জমি- জমা নেই তাদের। পিতা ঢাকার একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে ছোট পদে চাকুরী করেন। আর্থিক সংকটের কারণে ভিটেমাটিতে কোন ঘর-দরজাও নির্মাণ করতে পারেনি পরশের পিতা। সে শাহাবাজ থানা পাড়ায় ফুফুর ঘরে মা বোন সহ বসবাস করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে।
১ বোন ১ভাই পিতা-মাতা নিয়ে ৪ জনের সংসার। ছোট বোনও পড়ালেখা করে। গার্মন্টেস কর্মী বাবার সামান্য রোজগারের টাকায় কোন রকমে চলে সংসার। পরশ পড়ার খরচ জোগাতে নিজে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে যে টাকা রোজগার করেছে সে টাকা দিয়ে বই খাতা কলম কিনে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। সেই টাকায় দিয়েছে বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফিস । মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন এ বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরু থেকে তুখোড় মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র পরশ। সে ভালো ফলাফল করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তার এই ফলাফল আমাদের গর্বের।
মা পারুল আক্তার বলেন ছেলের অনেক বড় স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে সেনাবাহিনীর একজন বড় অফিসার হবে। কিন্তু দারিদ্র্য পরিবারে জন্ম নেয়া ছেলেটির সেই স্বপ্ন পূরুণে অর্থের যোগান হবে কি ভাবে ? তিনি সরকারি ভাবে ও বিত্তবান মানুষের কাছে ছেলের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।