গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ২০০ কেজি শাহ জিরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চোরাচালান চক্রের মূল হোতা শাহিন আলম পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার ৩০ জুলাই আনুমানিক বিকাল ৩ টার গাইবান্ধা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শাহজালাল ইসলাম (২৫), পিতা: মো. রুহুল আমিন, পশ্চিম বেড়াডাঙ্গা (গণেশপুর), থানা: পলাশবাড়ী, জেলা: গাইবান্ধা এবং মো. নওশাদ হাসান (আতিক) (৩০), পিতা: মো. নজমুল হক, গ্রাম: আমতলী, থানা: সারিয়াকান্দি, জেলা: বগুড়া। বর্তমানে তিনি পলাশবাড়ীর গয়েশপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পলাতক আসামি হলেন মো. শাহিন আলম (৩২), পিতা: মো. জাহিদুল ইসলাম, রাজাবাজার, থানা: বগুড়া সদর, জেলা: বগুড়া। পুলিশ জানিয়েছে, তিনিই চোরাচালান চক্রের মূল হোতা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ৩০জুলাই সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে গাইবান্ধা সদর এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি ট্রলিতে করে বস্তাভর্তি শাহ জিরা পলাশবাড়ীর দিকে নেওয়ার সময় শাহজালাল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী ওভারব্রিজের নিচ থেকে নওশাদ হাসান (আতিক)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার গণেশপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি গোডাউন থেকে ৮৮টি প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ২ হাজার ২০০ কেজি শাহ জিরা, ৩০টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা, ১০টি ভারতীয় মার্কাযুক্ত খালি বস্তা এবং একটি সেলাই মেশিনচালিত ট্রলি জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা শাহ জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, পলাতক শাহিন আলম এই চোরাচালান ব্যবসার মূল হোতা।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নং-৫৬, তারিখ ৩০ জুলাই ২০২৬, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।