গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
মোঃ রিয়াদ প্রধান
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সিআইডি পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ভোরে উপজেলার ৫ নং ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার গাইবান্ধার সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি ডিবি দল সাদুল্লাপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ডিবিকে জানান, স্থানীয় জনতা তিনজন ভুয়া সিআইডি সদস্যকে আটক করে তার কার্যালয়ে রেখেছে।
ডিবি সদস্যরা ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৌঁছে নাঈম (২০), রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও শেখ শাদিউল ইসলাম (২০) নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বাড়ি বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় হলেও বর্তমানে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করছিলেন।
তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ভুয়া সিআইডি অফিস আদেশ, দুটি ওয়াকিটকি সেট, সাত জোড়া হ্যান্ড গ্লোভস, পুলিশ লোগোযুক্ত একটি মাস্ক, সার্জিক্যাল ব্লেড ও সোয়াব কটন ভর্তি বক্স, একটি স্ট্যাম্প প্যাড, সিআইডি সদস্যদের মতো ব্যবহৃত পোশাক এবং একটি পারমানেন্ট মার্কার কলম জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় কর্মরত অবস্থায় ইয়াছিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ইয়াছিন তাদের কম দামে বিদেশি ডলার কেনার প্রলোভন দেখিয়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের দড়িতাজপুর গ্রামের ডলার ব্যবসায়ী মো. কাদের ওরফে সুকটুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রচুর পরিমাণ ডলার দেখানো হয় এবং পরীক্ষার জন্য কিছু ডলার দেওয়া হয়, যা ঢাকায় ভাঙিয়ে তারা সত্যতা নিশ্চিত করে। পরে তারা সিআইডি পরিচয়ে ডলার ভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করে।
বুধবার রাত ১টার দিকে তারা সুকটুর বাড়িতে গিয়ে ডলার ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার সময় নিজেদের সিআইডি পরিচয় দেয়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের আটক করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৭০, ১৭১, ৪১৯, ৪৪৮ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৬ এবং তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৬।
ডিবি সূত্র জানায়, ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।