বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
বুধবার (২২ জুলাই) কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনিও এমন গুঞ্জন শুনেছেন। তবে বিষয়টি সত্য কিনা, তা রাষ্ট্রপতির কাছেই জানতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিতে হবে। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হবে এবং এটি গ্রহণ বা অনুমোদনের জন্য আলাদা কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর পদটি শূন্য থাকবে না। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর, ফলে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।