গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট মাঝিপাড়া গ্রামে শাহ জালাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ভাইয়ের ছেলে গোলাম হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ জালাল মিয়া ওই গ্রামের মৃত নিয়ামতুল্লাহ শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে শাহ জালাল মিয়া নিজ বাড়ির বারান্দা সংলগ্ন শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় অভিযুক্ত গোলাম হোসেন ঘরের পশ্চিম পাশের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহ জালালের গলার ডান পাশে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই ঘরের অন্য কক্ষে থাকা শাহ জালালের স্ত্রী গলার শব্দ শুনে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
স্বজনদের দাবী, গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন। কিছুদিন আগে তিনি নিজের স্ত্রীকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনার পর তার স্ত্রী ঢাকায় চলে যান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গোলাম হোসেনের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ নিয়ে শাহ জালাল প্রায়ই তাকে শাসন করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।
ফুলছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ দুরুল হোদা বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।