
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের দপ্তরের ভেতরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতিসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
গতকাল বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বাম চোখের নিচ থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুই শিক্ষকের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তাকে কথা বলতে নিষেধ করা হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে গড়ায়।
আহত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ও সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ড. জিয়াউল হক তার দিকে এগিয়ে এসে ঘুষি মারেন। পরে ফোরামের সভাপতি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান কক্ষের ভেতরে থাকা ফুলের টব দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম এবং লাবুও তাকে মারধর করেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। এ সময় আমি জানতে চাই, এসব চিঠি কারা পাঠাচ্ছে? ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিষয়টির একটা বিহিত হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করি। একপর্যায়ে তারেক আমাকে বলেন, ‘আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়।”
তিনি বলেন, ‘এরপর জিয়াউল হক আমার দিকে এগিয়ে এসে প্রথমে ঘুষি মারেন। পরে রোকন ও জিয়াউলসহ অন্যরা একসঙ্গে আমার ওপর হামলা চালান। জিয়াউল, তারেক, মামদুদ, রোকন ও লাবু মিলে আমাকে মারধর করেন। তাদের হামলায় আমি আহত হই। এটি ছিল পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা।’
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিলো। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়। পরে তিনি তাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এলে তারা বাধা দেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তারা।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।