
শেরপুরের শ্রীবরদীতে কবরস্থানের জমি না থাকায় নিজ বসতঘরেই দাফন করা হয়েছে আব্দুল করিম (বৃদ্ধ) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তাতিহাটী ইউনিয়নের শালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল করিমের পৈতৃক সূত্রে ৪০ শতাংশ জমি ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে জমি বিক্রি করতে করতে শেষ পর্যন্ত বসতঘরটিই তাঁর পরিবারের শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। মৃত্যুর পর তাঁকে দাফনের জন্য পরিবারের হাতে আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না।
নিহতের মেয়ে করফুলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বসতঘর ছাড়া তাঁদের আর কোনো জমি নেই। নিরুপায় হয়ে ঘরের এক কোণে বাবাকে দাফন করতে হয়েছে। এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য একটি গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় একটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহম্মেদ জানান, বসতঘরে মরদেহ দাফনের খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি স্থায়ী গণকবরস্থানের অভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা দ্রুত এলাকায় একটি গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।