
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি হত্যা মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে আসামি করার ঘটনায় তাঁর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় হায়দার আলী তাঁদের সঙ্গে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে বালাপাড়া মাঠের পাড় এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি কাউনিয়া উপজেলার হরিচরণ লস্কর এলাকার মাঠেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন বলেন, হত্যা মামলার এজাহারে স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় হায়দার আলী তাঁদের সঙ্গে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন।
জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, ওই সময় মসজিদে উপস্থিত অন্য মুসল্লি ও আশপাশের দোকানদারদের বক্তব্য নেওয়া হলে ঘটনার সময় ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই তদন্তের ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই হায়দার আলীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। জসিম উদ্দিনের দাবি, নির্বাচনে নিহত ব্যক্তির ভাই নয়ন পরাজিত হওয়ার পর থেকে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন ও স্থানীয়রা বলেন, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় ওই এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি হত্যা মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, সাক্ষীদের বক্তব্য যাচাই এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল জানান, ইউপি সদস্য হায়দার আলী রতন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।