
বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, বেতগাড়ি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটির নামে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তালিকায় রয়েছে পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির এবং পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নাম। অভিযোগ, এসব মন্দিরের মধ্যে দুটি মন্দিরে এবার পূজা অনুষ্ঠিত না হলেও সেগুলোর নামে বরাদ্দ চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের যোগসাজশে পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় অস্তিত্বহীন বা পূজা না হওয়া মণ্ডপ দেখিয়ে সরকারি চাল উত্তোলন করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি কোথাও কোনো স্বাক্ষর করিনি। পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র এসব কাজ করেছেন বলে পরে জানতে পেরেছি।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “২০২৫ সাল থেকে এখানে কোনো পূজা উদ্যাপন করা হয়নি। এবারও হয়নি। কে বা কারা তারপরও চাল বরাদ্দ নিয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও মাইদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে।”
অন্যদিকে পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এটা ভুল হয়েছে, আমরা উত্তোলনকৃত চাল ফেরত দেব।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বরাদ্দ করা চাল ফেরতের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কারও অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি বরাদ্দের চাল প্রকৃত পূজামণ্ডপে বিতরণ ও যথাযথভাবে ব্যবহারের কথা। সেখানে পূজা না হওয়া মন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ সরকারি সহায়তা বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন উত্তোলন করা চাল ফেরত দেওয়া, বরাদ্দের নথিপত্র যাচাই এবং অনিয়মে কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।