রিপোর্ট বাংলাদেশ~
১১ জুলাই ২০২৫, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কেয়ার প্লাস হসপিটালের রমরমা প্রতারণা! নেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার নামক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী বাজার কাপড়িয়াপট্টিতে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গত এক বছর পূর্বে। এরপর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও টেস্ট বাণিজ্য করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

অবৈধ কার্যক্রমের কোন খবর সামনে এলে মৌখিকভাবে সতর্ক করা ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেননি সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা সিভিল সার্জন। সরেজমিন শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এসেছেন কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারে। কথা হয় সালমা নামের এক রোগীর সাথে। তিনি জানান, এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমি চিনি না। অল্প টাকায় রিপোর্ট করে দেয়ার কথা বলে একজন লোক এখানে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদক কে বলেন, আমরা এখনো বড় আকারে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম শুরু করিনি। প্রাথমিক কিছু টেস্ট ও রিপোর্ট করছি মাত্র। অন্যদিকে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের লাইসেন্স পেতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা নামের ভুঁইফোড় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এসব ক্লিনিকের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি যেমন তেমনি ভোগান্তিরও শেষ নেই। চিকিৎসা নিতে আসা দূর দূরান্ত থেকে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দালালের মাধ্যমে আমরা কেয়ার প্লাসে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখানে আল্ট্রা করানোর জন্য আমাদের কে প্রায় ২ ঘন্টা বসিয়ে রেখেছে। ভোগান্তির মধ্যে শেষ নয়, কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রমরমা প্রতারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রতিষ্ঠানে নেই কোন দক্ষ প্যাথলজিষ্ট ও টেকনিশিয়ান।

গ্রামের সহজ সরল রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসার নামে সঠিক ভাবে পরীক্ষা না করেই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার থেকে অনেক চিকিৎসকও দালালরা কমিশন পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

শুয়াগাজী বাজারে অবস্থিত কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার ও অন্যান্য প্যাথলজি সেন্টারগুলোতে নেই নিজস্ব কোন চিকিৎসক। অথচ প্রতিটি ক্লিনিক সমূহে একাধিক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে চাকচমক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দক্ষ টেকনিশিয়ানদের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে প্যাথলজির বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদন দেন সেখানকার কর্মচারীরা। এমনকি মালিক ও কর্মচারীরা চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

সিভিল সার্জন ডা.আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার আগে কোন ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম শুরু করার কোন সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম শুরু করলে সেসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ব পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় যত্রতত্র থুতু ফেললেই জরিমানা: উপমুখ্যমন্ত্রী

ভূমিকম্প হলে যে দোয়া ও আমল করবেন

গভীর রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান

কাউনিয়ায় অটোচার্জার যাত্রীর স্কুল ব্যাগে ছিলো ২৫ বোতল এসকাপ

বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম

রংপুরের কাউনিয়ায় মাদকের ভয়াবহ ছোবল, যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছে

সংসদে তোফায়েল আহমেদসহ সাবেক ১৬ এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু

আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে উলিপুরে জলবায়ু সচেতনতা র‌্যালি ও আলোচনা সভা

১০

জাপানে জন্মহারে সর্বোচ্চ পতন, পাঁচ বছরে কমেছে ৩১ লাখ মানুষ

১১

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ভারত

১২

আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ

১৩

বিসিবি নির্বাচন আজ

১৪

দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

১৫

মাঝরাতে ফোনে কথা বলায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করল স্বামী

১৬

গাইবান্ধায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩

১৭

রাতে আদা চা খেলে কী উপকার মিলতে পারে?

১৮

ইরানের ড্রোন কোথায় আছে আমরা জানি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৯

বাংলাদেশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই ৫ ধরণের ক্যান্সার, কারণ কি?

২০