জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য আরও নির্ভুল ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে ৬ বছর বয়সী বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুদের নিবন্ধনের আওতায় এনে এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদিও বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে বয়স বা তথ্য গোপন করে ভোটার হওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধনের হারও কমে আসবে। কারণ, শুরু থেকেই একজন নাগরিকের সব কার্যক্রম একই পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত হলে তথ্যগত ভুলের সম্ভাবনা কম থাকবে।
তবে শিশুদের শারীরিক গঠন ও চেহারায় বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন আসায় এনআইডির তথ্য কীভাবে হালনাগাদ করা হবে এ বিষয়ে ইসি বলছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদের বিধান রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। আর ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষকে একটি একক পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিকের জন্য একটি স্থায়ী পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ সহজ হবে। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ব্যবস্থার মূল ধারণাও ছিল জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একই পরিচয় বহাল রাখা।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা ৬ বছর বয়সী শিশুদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষার্থীভিত্তিক তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে স্কুলকেন্দ্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।’