
সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে রংপুর মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি একটি সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সঙ্গে একজন আইনজীবীর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছরিয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা, মন্তব্য ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। আমি এই গুপ্ত জামাত নেতা তথাকথিত আইনজীবী ইব্রাহীম খলিলকে চিনতাম না। তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তিনি ৪ সেপ্টেম্বর বিকালে আমার বাসায় গেলে আমি না থাকায় তিনি আমার মোবাইল নম্বরটি সংগ্রহ করে এবং আমাকে ফোন দিয়ে তার একটি জরুরী কাজের প্রয়োজনে আমার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করে। আমি ব্যস্ত থাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করি। ঐ দিন রাতে তিনি আবার ফোন দিয়ে অনুরোধ করলে আমি তার সাথে দেখা করি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, তিনি আমার কাছে আসলে আমি ইব্রাহীম খলিলকে দেখে আওয়ামীলীগ নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী আতিকুল্লা ভেবে চমকে উঠি। যাহার কোতয়ালী থানার মামলা নং ৪, তারিখ: ৩/১২/২০২৪ ইং। তখন তিনি আমাকে বলে আমি আতিকুল্লা নই আমি তার বড় ভাই ইব্রাহীম খলিল। তিনি আমার হাত ধরে অনুরোধ করে বলে, ভাই আমি বড় বিপদে পড়েছি এবং আমার জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আপনার সহযোগীতা প্রয়োজন। আপনি তাহাদেরকে ডেকে আমার বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। আমি তখন তাকে বলি আগামীকাল সকাল ১১টায় আসেন। আপনারদের উভয়পক্ষকে নিয়ে কথা বলবো। পরের দিন অন্য পক্ষ আসলেও গুপ্ত জামাত নেতা খলিল আসেননি। অন্য পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারিলাম উক্ত জমির বিষয়ে তাদেরও কাগজপত্র আছে। তখন আমি তাকে ফোন করে জানাই আপনি তো আসলেন না আপনি বলেন, আপনার কাগজ আছে, আপনার বিপরীত পক্ষ বলে তাদেরও কাগজ আছে। তখন আমি খলিলকে বলি আপনাদের জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়টি আমি মিমাংসা করিতে পারিবো না, আপনারা আদালতের স্বরণাপন্ন হন। এরপর তার সাথে আমার আর কোন কথা হয়নি।
যুবদলের সদস্য সচিব বলেন, পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখিতে পাই ইব্রাহীম খলিল বিএনপি আইনজীবী ফোরামের সদস্য পরিচয় দিয়ে, চিহ্নিত জামায়াত ও আওয়ামী আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, পরে জানতে পারিলাম তিনি বিএনপি আইনজীবী ফোরামের কোন সদস্য নন। যাদের পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি জানতে পেয়েছি, আপনারা চাইলে আমি আপনাদের দিতে পারি। পর দিন দুপুর বারোটার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি দেখিতে পাই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খলিল আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকারে পরিণত করেছে। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি অডিও রেকর্ড প্রচার করিয়েছে। যে কথাগুলো গুপ্ত জামাত নেতা খলিলের সাথে আমার নয় এবং আদৌ হয়নি।
রাজনীতি মানে শুধু বক্তৃতা ও মিছিল-মিটিং নয়, রাজনীতি মানে মানুষের বিপদে পাশে দাড়ানো, মানুষের সমস্যা শুনে সমাধানের পথ খোঁজা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করা যেতে পারে কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। সত্য ফুল, হয়ে ফুটবেই ইনশাআল্লাহ। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেবো।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক জহির আলম নয়ন, যুগ্ন আহবায়ক ওয়াহেদ মুরাদসহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।