
ঢাকার সাভারে ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে (৩০) পাঁচতলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মিন্টুকে (৪৪) রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের বাজার সৈয়দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩-এর একটি দল।
গ্রেপ্তার মিন্টু পীরগাছা উপজেলার সুল্লিপাড়া গ্রামের মো. ফুল মিয়ার ছেলে এবং মামলার ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই নিহতের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক এক কিশোরীকে নিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত করা হয়।
গত ৬ আগস্ট রাতে কিশোরীকে উদ্ধারে পীরগাছা থানা পুলিশের একটি দল সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে আসামিরা পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে কিশোরীকে না পেয়ে আসামিরা মনোয়ারুলকে ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় তাকে পাঁচতলার ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মমদেল হোসেন বকশী বাদী হয়ে গত ১৫ আগস্ট সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু, পীরগাছার সুল্লিপাড়া গ্রামের মো. মিন্টুসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, ওই ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ৮ আগস্ট নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মিন্টুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।