
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দ্রুতগতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মো. গোলাম রাব্বানী (৩৩) নামে এক কলেজ হিসাবরক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিমপাড়া মার্কাস মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রাব্বানী সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৪ নম্বর সাহাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. জিন্নহ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা অভিমুখী ফাতেমা কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৯৩২) চাকায় পিষ্ট হন গোলাম রাব্বানী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাসটি হেফাজতে নেয়।
গোলাম রাব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে চলাচল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে ঢাকাগামী ২০টিরও বেশি যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের দুই পাশে ঘনবসতি রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশে প্রায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
তাদের অভিযোগ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকারসহ প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কের জায়গা দখল করে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কাউন্টারের সামনে বাস ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
তাদের দাবি, একদিকে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল, অন্যদিকে সড়কের জায়গায় পরিবহন কাউন্টার ও যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে এ এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাদুল্লাপুর থানার পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সড়কের জায়গা দখল করে থাকা কাউন্টার উচ্ছেদ, যানজট নিরসন এবং অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মিরর নিউজকে মৃত্যু খবর নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ নিহত গোলাম রাব্বানীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।