
রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় (মাছুয়াপাড়ায়) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। মাদকাসক্ত হয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে গ্রেফতার দুজনের বক্তব্যে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল এবং একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। একাধিক কিলারের খোঁজে নেমেছেন তারা।
এছাড়া ঘটনার দেড় মাস আগে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও কাকার বাড়ি বিক্রির তথ্য তদন্ত সংস্থাকে ভাবিয়ে তুলেছে। হত্যার পর তাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল-এমন তথ্য বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে নেমেছেন।
এদিকে জেলগেটে দ্বিতীয়দফা জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য দিয়েছে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। এতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের অনেক গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। হত্যার সময় নিয়ে গ্রেফতার দুজন যা বলছে সে ব্যাপারে পুলিশের তথ্য-প্রমাণ মিলছে না।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও ওই সময়ে হত্যার ঘটনা ঘটেনি তা নিশ্চিত। হত্যার রাতে ভোর ৫টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধুর সঙ্গে আগমনি চক্রবর্তীর ম্যাসেঞ্জারে কথপোকথন হয়েছে। তাই খুনের ঘটনা আসামিদের বর্ণনায় যা বলা হচ্ছে তা যুগান্তরের অনুসন্ধান ও তথ্য প্রমাণে মিলছে না। খুন দিনের বেলায় ঘটেছে-তথ্য প্রমাণে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে। এ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে পড়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা যে কথাই বলুক না কেন-আমরা সবকিছুই আমলে নেব। ঘটনা প্রমাণের জন্য যা প্রয়োজন তা করা হবে। তিনি বলেন, আগাম কোনো তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশ করে মামলার গতিকে বাধাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত করতে চাই না। আদালতের অনুমতি নিয়ে বুধবার দ্বিতীয়দফা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলী গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দহে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ।<