
সাইফুল ইসলাম, কাউনিয়া ঃদারিদ্র্যকে জয় করে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ইফফাত আরা ইথিন। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে উপার্জন করা টাকায় বই-খাতা-কলম কিনে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। এমনকি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফিও দিয়েছে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে।
ইথিন রংপুরের কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। উপজেলার ভূতছাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. ইদ্রিস আলী ও গৃহিণী মোছা. আরজু খাতুনের মেয়ে সে। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ দেখা দিলেও মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তার বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলীর বসতভিটা ছাড়া মাত্র ১২ শতক জমি রয়েছে। কৃষিকাজ করে সামান্য আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতে হয় তাকে। ইথিনের ছোট বোনও পড়াশোনা করছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ইথিনের জন্য নতুন বই, খাতা কিংবা পোশাক কেনাও অনেক সময় সম্ভব হয়নি। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাকে দমাতে পারেনি।
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ইথিন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়াত। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় বই-খাতা-কলম কিনে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। নিজের চেষ্টায় শিক্ষা ব্যয় বহনের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে সে।
মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরু থেকেই ইথিন তুখোড় মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সে বিদ্যালয়ের জন্য গর্ব বয়ে এনেছে।’
ইথিনের মা আরজু খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়ের অনেক বড় স্বপ্ন। সে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু আমরা দরিদ্র। মেয়েকে ভালো কলেজে ভর্তি করানো এবং পরবর্তী পড়াশোনার খরচ চালানো আমাদের পক্ষে কঠিন।’
মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইথিনের বাবা ইদ্রিস আলী মেয়ের ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়ের ফলাফলে আমি খুব খুশি। কিন্তু সামনে পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
দারিদ্র্যকে জয় করে নিজের উপার্জনে পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করা ইথিন এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে আর্থিক সংকট তার সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবারটির।