
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ আরমান।
সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এমপিওভুক্ত স্কুলের ভিতরেই কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করায় ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “কোচিংয়ে না পড়লে আমাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হয় এমন অনেক ঘটনা আছে। তাই বাধ্য হয়েই কোচিং করতে হয়।” এমনকি প্রতি মাসে ৪০০-৫০০ টাকাও দিতে হয় সেখানে।
এবিষয়ে কোচিং পরিচালক শিক্ষক আসিফ আরমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজুলেশনের মাধ্যমে তাদেরকে স্কুল ছুটির পর অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক কোচিং পরিচালনার সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা শিক্ষার্থী প্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে এই কোচিং পরিচালনা করি। এখানে শুধু আমি না আমি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষক আছেন এবং বহিরাগত কিছু শিক্ষক এখানে ক্লাস নেয়।
তবে রেজুলেশনে দেখা যায়, তুলনামূলক কম মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ছুটির পর এক ঘণ্টা অতিরিক্ত ‘এক্সট্রা কেয়ার’ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০০-৫০০ টাকা করে আদায় কিংবা বহিরাগত শিক্ষক এনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ অনুযায়ী, শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাণিজ্যিকভাবে কোচিং করাতে পারবেন না।
অভিভাবকরা বলেন, বহিরাগত শিক্ষক এনে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই অর্থের বিনিময়ে আমাদের সন্তানদের পড়াতে হচ্ছে। যদি অর্থের বিনিময়ে আমাদেরকে পড়াতেই হয়, তাহলে এই বিদ্যালয়ের কাজ কি। এখানকার শিক্ষকদের কাজ কি? এমপিওভুক্ত স্কুলে পাঠিয়েও আমরা কেন সেই স্কুলেই কোচিং সেন্টারে আমাদের সন্তানদেরকে পড়াবো।
এবিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে কোচিং সেন্টার চলছে এটা আমি জানিনা। যদি এমন হয়ে থাকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এডহক কমিটির সভাপতি নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি কিছুদিন আগেই দায়িত্ব পেয়েছি। এমন কোন কোচিং সেন্টারের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি আইন বহির্ভূত হয়ে থাকে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কিছুদিন আগেই দায়িত্ব নিয়েছি। আগে থেকে কোচিং চলছে বিধায় আমি কিছু বলিনি। এটা যদি আইন বহির্ভূত হয়ে থাকে আমরা বন্ধ করে দেব।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উন্নতির কথা বলে টাকার বিনিময়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং কোচিংয়ে ভর্তি না হলে ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়, আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই এখানে পড়াচ্ছি।