
রংপুরের পীরগাছার এক তরুণীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় গত শনিবার (১৫ আগস্ট) হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
মামলায় তরুণীর বাবা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টু, সুল্লিপাড়া গ্রামের মো. মিন্টুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ছবি ব্যবহার করে তার ফাঁসির দাবিতে পোস্টার লাগিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চৌধুরানী বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, মামলার এজাহারে তার নাম নেই এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তার ছবি ব্যবহার করে পোস্টার ছাপিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর হত্যা মামলার বাদী মমদেল হোসেন বকশী বলেন, কে বা কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা তাদের জানা নেই। তবে তদন্তে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বাদীর ভাগনে শাহারিয়ার কবির সৌমিকের (২০) সঙ্গে শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে মিমের (১৮) প্রেমের সম্পর্কের জেরে তারা বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় মিমের বাবার করা একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে গত ৫ আগস্ট রাতে পীরগাছা থানা পুলিশ আসামিদের সঙ্গে নিয়ে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে মিমকে না পেয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও দুটি স্মার্টফোন ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে ছাদে নিয়ে মারধর করে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, ওই ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে গত ৮ আগস্ট নিহতের মরদেহ নিয়ে তার স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। ঘটনার পর পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোয়ারুলের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের সময় তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দুইজন নামীয় আসামি ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি বলেও জানান তিনি।