
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলামের (৩৫) ওপর হামলা এবং হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রহিদুল ইসলাম (৪৫) কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র্যাব ) । গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রহিদুল আদিতমারী থানার গন্ধমরুয়া (সিঙ্গমারী) গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলো। এলাকায় জুয়া বন্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকতে ওই ব্যক্তিদের নিষেধ করতেন শিক্ষক আরিফুল। জুয়া বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ আগস্ট দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় গত ২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষকের পিতা বাদী হয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ( মামলা নং- ০৩)। এরপরেই আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং র্যাব-৩, সিপিসি-২, মগবাজার ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল ১২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ রাত ০৮.৩০ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলাস্থ জনৈক মোঃ জামাল সাহেবের বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে আদিতমারীর শিক্ষককে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।