৭ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে

৭ নভেম্বর, ২০২৬ সময় – ০৬:৩০:৩১

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। রক্ষীবাহিনীকে সামনে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল মূলত সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত বিপ্লব। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আধিপত্যবাদী শক্তি সব সময়ই হুমকিস্বরূপ। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, তারাই আবার ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসের দাবি করেন। অথচ হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যর্থ হতে পারে না। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত চেতনা হচ্ছে জনগণের অধিকার, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এ চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিউল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায় অস্বীকার, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯৭৩ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালী শাসনের মধ্য দিয়ে দেশ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে কর্নেল তাহেরসহ বিভিন্ন পক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেদিনের জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বর্তমান সময়েও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজমসহ মহানগরী ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Source: https://publicnewsbd.com/details/?pid=4620

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে

১

ভারতরত্নপ্রাপ্ত বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

২

ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরাকে ঘিরে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

৩

চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালী ও সিলেট পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপির

৪

নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল জামায়াত কর্মীর

৫

ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি ছাত্রশিবিরের

৬

সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদিতে নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

৭

পীরগাছায় বন্ধক নেওয়া পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ, দেড় লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

৮

নারী ক্রিকেটারদের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে যাচ্ছে বিসিবি

৯

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১০

স্পেনের দল ঘোষণায় ফুয়েন্তের চমক, ডেকেছেন ৫ নতুন মুখ

১১

ইরানে হামলা না চালালে ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প

১২

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষাসফরের পুকুরে, প্রাণ গেল ২ শিক্ষকের

১৩

স্ত্রী-মেয়ে-শালি ও ভাগ্নির নগ্ন ভিডিও পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রি করতেন গিয়াস

১৪

আজ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

১৫

খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও, তবু থামেননি

১৬

লাখো মুসল্লিতে মুখর দিনাজপুরের ইজতেমা ময়দান, জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল

১৭

পরীমনির পাশে দাঁড়ালেন প্রভা, বললেন- ‘আমাকেও ব্যডটাচ করা হয়েছিল’

১৮

কালীগঞ্জে ড্রামট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ফুটবল দর্শক যুবকের, আহত ৩

১৯

বিয়ের ৮ বছর পরে অবিবাহিত সেজে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয় তরুণী

২০