
“বাংলাদেশ তারকা পুরস্কার–২০২৬”-এ শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জনের পর ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ রিয়েলিটি শোসহ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন জনপ্রিয় শিশুশিল্পী রাইয়ান রাহাত। তবে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সারাদেশের অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানো কোনো সহজ পথ নয়। এই দীর্ঘ পথের প্রতিটি ধাপের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক অর্জন।
২০২৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী পুরস্কার” অর্জন মেধাবী রাইয়ান রাহাতের শিক্ষা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। দীর্ঘ ৮–৯ বছরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিভিন্ন অর্জন এবং ধারাবাহিক ফলাফলের মধ্য দিয়ে এই স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে।তার ভাষায় এই অর্জনের অনুভূতি কেবল কয়েকটি শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের একাধিক স্বীকৃতি। ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনে সাফল্য অর্জন করেন। ২০২১ সালে ‘বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২০ ও ২০২১ সাল থেকে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন, অভিনয়, নাচ ও বক্তৃতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ এবং দেশব্যাপী আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাতেও তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।প্রতিযোগিতামূলক অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয় রাইয়ান রাহাতের শিল্পচর্চার পরিধি। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি তার ঝুলিতে রয়েছে ৩০০-এর বেশি সার্টিফিকেট এবং প্রায় ৫০০টি ক্রেস্ট ও ট্রফি ও সম্মাননা। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এসব অর্জন তার দীর্ঘ পথচলারই প্রতিফলন।
শিশুশিল্পী হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনেও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন রায়ান রাহাত। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি শিশুতোষ অনুষ্ঠানেও পরিবেশনা করেছেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিশু শিল্পী রাইয়ান রাহাত বলেন,
“আমি খুবই ছোট্ট একজন মানুষ। ১৫–১৬ বছর বয়সে একজন শিশু হিসেবে পাওয়া এই অর্জন শুধু আমার একার নয় মা, বাবা ,শিক্ষক বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ আপনাদের সবার। এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিগুলো আমার কাছে শুধু সম্মান নয়; বরং এর সঙ্গে নিজের দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়ার একটি গভীর উপলব্ধি জড়িয়ে আছে। আমি বিশ্বাস করি, নিজেকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কিছু করতে পারব।
আমার লক্ষ্য একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়া। শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে দেশ ও দেশের মানুষের সেবায়, বিশেষ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
সর্বপ্রথম আমি আমার মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁর অশেষ রহমতে আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ আমার মা-বাবার প্রতি—তাঁদের ভালোবাসা, ত্যাগ ও দোয়া আমাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার শিক্ষা জীবনের সকল শিক্ষককে, যাঁদের হাত ধরে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে শিখছি। বড়–ছোট সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতিও আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, যাঁরা নিয়মিত সহযোগিতা করেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন।
এই অর্জনগুলোকে আমি শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখি না। বরং এগুলোকে সামনে আরও ভালো কিছু করার দায়িত্ব ও অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি।”