শনিবার থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। জিপিএস ছাড়া মিলবে না নতুন রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ নবায়ন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাস্তবায়নে আরও সময় চেয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। তবে শুধু জিপিএস নয়—কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সড়কে নামলেই চোখে পড়ে গণপরিবহনের চরম বিশৃঙ্খলা। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসগুলোর বেপরোয়া রেষারেষি যেন নিত্যদিনের চিত্র। কোথাও একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচলও।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাস্তবায়নের জন্য আরও সময় চেয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে আমাদের চূড়ান্ত চুক্তিগুলো হয়ে গেছে। ১ আগস্ট থেকে আসলে আমাদের পক্ষে পুরোপুরি সক্রিয় করা সম্ভব হবে না, আমাদের আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’
জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ মিলবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও প্রতিনিধিদের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।
সংস্থাটির চেয়ারম্যন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন গাড়ি যখন রেজিস্ট্রেশন করতে আসবে, তখনই জিপিএস লাগিয়ে নিয়ে আসবে। ফিটনেসের জন্য যখন আসবে, তখনও লাগিয়ে নিয়ে আসবে। আমাদের এখানেও একটা ব্যবস্থা (সিস্টেম) গড়ে তোলা থাকবে, যাতে আমরাও বুঝতে পারি যে জিপিএস লাগানো আছে।’
শুধু প্রযুক্তিগত নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি সংস্কারে জোর দেওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, ‘শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুফল আসবে না, একটা ফাঁক থেকে যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার করতে হবে। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারও করতে হবে।’
সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয়ে বিশ্লেষকেরা।