রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সেরুডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এক সহকারী শিক্ষকের বেধড়ক মারধরে এক শিক্ষার্থীর হাত (ফ্র্যাকচার) হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়জুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নূর আলম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে এক শিক্ষার্থীর হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। এক্স-রে রিপোর্টে তার হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক নামমাত্র দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোববার বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দেন।
সরেজমিনে ওই শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণে আতঙ্কিত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, সামান্য বিষয়েও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং অনেক সময় পাঠদানের পরিবর্তে মোবাইল ফোনে টিকটক ও রিলস দেখায় ব্যস্ত থাকেন। এছাড়াও গত অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আমরা অফিসে করেছিলাম যার ফলে তিনি আমাদের এ ধরনের মারপিট সচরাচর করেই থাকেন। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা জানায়।
আহত শিক্ষার্থীর চাচা মাহাবুল ইসলাম বলেন,
“স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর আমার ভাতিজার চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে জানতে পারি শিক্ষক নূর আলম তাকে ও আরও কয়েকজনকে মারধর করেছেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করলে তার হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী এবং তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা আছে বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান এবং দ্রুত কলটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।