
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর ফুটবলের উন্মাদনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম। শনিবার (৩১ অক্টোবর), এক উৎসবমুখর ও টান টান উত্তেজনাকর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত “জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট”-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফাইনালে শক্তিশালী কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা দল একে অপরের মুখোমুখি হয়।
ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত লড়াই ও নান্দনিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে কুড়িগ্রাম পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের অসাধারণ খেলা এবং স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের উপচেপড়া ভিড় ও উল্লাস এক অবিস্মরণীয় দৃশ্যের অবতারণা করে।
খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন কুড়িগ্রামের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন,খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। কুড়িগ্রামের তরুণদের খেলাধুলার এই উদ্দীপনা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ফাইনাল ম্যাচে কুড়িগ্রাম পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এবং সদর দলও দারুণ লড়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের এই মাঠ থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। এই টুর্নামেন্ট সফল করতে যারা মাঠে থেকে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
দর্শকদের ক্ষোভ ও মাঠের সংকট নিয়ে নানা দাবি
এদিকে ফাইনাল ম্যাচের এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত নানা সংকটের চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাঁরা বলেন, কুড়িগ্রামের মতো এত বড় একটি জেলায় স্টেডিয়ামে দর্শকদের বসার জন্য স্থায়ী কোনো গ্যালারি নেই। যার ফলে হাজার হাজার দর্শককে প্রচণ্ড রোদ ও কষ্ট সহ্য করে মাঠের চারধারে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করতে হয়েছে।
পাশাপাশি নারী দর্শকদের জন্য খেলা উপভোগের সুনির্দিষ্ট বা আলাদা কোনো নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় নারী দর্শকরা বেশ বিড়ম্বনার শিকার হন। এছাড়া খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে চরম সংকট; মাঠে ম্যাচ চলাকালীন বা প্র্যাকটিসের সময় খেলোয়াড়দের বসার বা রেস্ট করার মতো কোনো মানসম্মত ড্রেসিংরুম বা আলাদা জায়গা নেই, যা বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় এক অন্তরায়। এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের জোরালো দাবি জানান স্থানীয় দর্শক ও ক্রীড়ামোদী জনসাধারণ।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন
পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফিজার রহমান মোস্তফা, কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার কোহিনুর রহমান, রংপুরের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার মোসাব্বের হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
চ্যাম্পিয়ন দল (কুড়িগ্রাম পৌরসভা): ট্রফি ও ১ লক্ষ টাকার প্রাইজমানি।
রানার্সআপ দল (কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা): ট্রফি ও ৫০ হাজার টাকার প্রাইজমানি।
শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়: ৫ হাজার টাকা ও বিশেষ সম্মাননা।
ম্যাচজুড়ে কুড়িগ্রামের ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এই টুর্নামেন্টকে একটি ঐতিহাসিক উৎসবে পরিণত করেছে। চ্যাম্পিয়ন কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও রানার্সআপ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল দলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন!