
কারিগরী ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-২ আজ রবিবারই পুনরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আদানি পাওয়ার এক বার্তায় জানিয়েছে, ইউনিট-২ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে সিনক্রোনাইজ (সংযুক্ত) হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুপুরের আগেই ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দুই দশকে রফতানি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার আগে পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আকস্মিক সরবরাহ নেমে আসে ৭৫৮ মেগাওয়াটে।
এর আগে ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও আগস্টের শেষ দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কেন্দ্রটি দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। কিন্তু উৎপাদন বাড়ার ঠিক পরপরই কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।
আদানির এই ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। এতে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটের বিশাল ঘাটতি তৈরি হয় এবং গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চুক্তি স্বাক্ষর করে। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে এর আগে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে। এখন বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর থেকে চাপ অনেকাংশে কমবে।