ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে পরীক্ষার মাঠে পেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি জানান, সেটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি এবং পরীক্ষাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একটি পক্ষ রাজনীতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী স্থানীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নেতাকর্মী ও দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করতে মনিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে যৌথ সভা করছে উপজেলা বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে গত ২৫ জুলাই উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু।
সভায় বক্তব্যকালে তিনি বলেন, আমি এখান থেকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে যদি উপজেলা মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।
একই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের উদ্দেশে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা যখন উপজেলা প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে; তখন থেকে জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে বিরূপ মন্তব্য বা পোস্ট দিতে থাকে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য দিয়েছিলাম। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক মঞ্চে অনেক সময় পাল্টা এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে, এটাকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে কে কোনো ধর্ম বা দল দেখা হয়নি।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন বলেন, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে গত ২৯ জুলাই। এতে তথ্য সংগ্রহকারী এক হাজার ৫৭২ জন আর সুপারভাইজার পদে ১৯৮ জন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই বা আসেনি।