২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক হিসেবে থাকা আরও ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন।
যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে র্দীর্ঘদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাখার পর সোমবার তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদা ৩২ আদেশে তাদের অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এটি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের বড় ধরনের সিদ্ধান্ত।
এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন মাজেদুর রহমান খান, আবুল ফজল মীর, আসলাম হোসেন, মঈনউল ইসলাম, মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, মো. শাহরিয়ার, কাজী আবু তাহের, এ জেড এম নুরুল হক, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, অঞ্জন চন্দ্র পাল, এ কে এম মামুনুর রশিদ, কামাল হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মো. জসিম উদ্দিন, সরোজ কুমার নাথ, শহিদুল ইসলাম, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, এস এম অজিউর রহমান, মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নাজিয়া শিরিন, সুলতানা পারিভীন, আনার কলি মাহবুব, মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, সৈয়দা ফারহানা কাইনাইন, সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, মাহমুদুল কবীর মুরাদ, আলী আকবর, এস এম আব্দুল কাদের, এস এম ফেরদৌস এবং গোপাল চন্দ্র দাস।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সরকার জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনা করে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হল।
তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারী করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবেও বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনগুলোতে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের তিন জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ২২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। তাদের মধ্যে তিনজন সচিব, ১৭ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন করে যুগ্ম সচিব উপসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৬টি প্রজ্ঞাপন জারি করে ৩৩ যুগ্ম সচিবকে ওএসডি করে রাখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।