দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
তার অভিযোগ, ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন গাজী নজরুল। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার। আর এই প্রলোভন দিয়ে মাসুম বিল্লাহের মেয়ের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন নজরুল।
আর টাকার লোভে ওই তরুণীর মা–বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি বলেও দাবি ওবায়দুলের।
জানা গেছে, সম্পর্কে তরুণীটির মামা হন ওবায়দুল। ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন তিনি।
ওবায়দুর জানান, গাজী নজরুল সম্পর্কে মাসুম বিল্লাহর খালু। তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ওই তরুণীর পল্লবীর ভাড়া বাড়িতে গাজী নজরুলের যাতায়াত ছিল। এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও গাজী নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলে ওই তরুণীর বাড়িতেই থাকতেন।
ওবায়দুর জানান, ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বোনজামাই মাসুমবিল্লাহকে জেরা করেন। তখন মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’
সেই লক্ষ্যে সফলও হন মাসুম বিল্লাহ। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই মাসুম বিল্লাহর নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের কাজ ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মুহুর্তেই দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।