সাইফুল ইসলাম , কাউনিয়া ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাত রাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছ, উপজেলার ভায়ারহাট থেকে শুরু করে হারাগাছ পৌরসভা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। ফলে শিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশার টাকার জন্য পরিবারগুলোতে অশান্তির বীজ বপন হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবাধ বিস্তারের কারণে তরুণরা নেশার জগতে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলেছে। অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। মাদকের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে বিপথে চলে যাচ্ছে।”সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং যুবকদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। এছারাও রাজনৈতিক দলে কর্মী সমর্থক নেয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, সামাজিক বিভিন্ন সুরক্ষা প্রাপ্তিতে ডোপটেষ্ট বাধ্যতা মূলক করা প্রয়োজন।
এ কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিয়াব উদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।”
স্থানীয়দের দাবি, কাউনিয়াকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবার ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।