হাসপাতালে এ চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম কমানোর ফলে সাধারণ হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে। রোগীদের স্বার্থেই রিংয়ের দাম কমানো হয়েছে। যে হারে দাম কমানো হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। তবে হাসপাতালগুলো নির্ধারিত দামে রিং বিক্রি করছে কিনা, তা কঠোরভাবে তদারক করা জরুরি।
এ বিষয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, চার মাস আগে দাম কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এখনও কেন সে দাম কার্যকর হলো না, তা নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে হৃদরোগীদের স্বস্তি ফিরবে না। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের আরও কাজ করা দরকার।
মেডিকেল ডিভাইস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ওয়াসিম আহমদ বলেন, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে একবার দাম কমানো হয়েছিল। প্রতিবছর নীতিমালা ছাড়া এভাবে দাম কমানো হলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া জনস্বার্থের কথা বলে যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে প্রকৃত জনস্বার্থ রক্ষিত হয়নি।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, নির্ধারিত দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। তারা দ্রুত নতুন দাম কার্যকরের সুপারিশ করেছেন। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগীরা যদি অভিযোগ করে, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। সাধারণ মানুষের জানার সুবিধার্থে হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডেও হার্টের স্টেন্টের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করা। এ কারণে হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।