ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করতে হলে সব বিরোধী দলকে মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনেও অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন।Geographic Reference
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের কালিঘাটপন্থি শিবিরের আয়োজিত বার্ষিক ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে সবাই একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ুক—এটাই তিনি চান। এ লড়াইয়ে তার কোনো ব্যক্তিগত অহংকার নেই। একই সঙ্গে তিনি অন্য বিরোধী দলগুলোকেও সব মতভেদ ভুলে একসঙ্গে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অহংকারের চেয়ে অনেক বড়। তাই প্রয়োজনে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনেও যোগ দিতে প্রস্তুত।
সমাবেশে দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল প্রধান বলেন, যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাদের আর কখনো দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। তিনি তাদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মমতার অভিযোগ, কিছু বিদ্রোহী নেতা বিজেপির ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি বিজেপিকেই সমর্থন করতে চান, তাহলে গোপনে নয়, সরাসরি সেই দলে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, যত বেশি মানুষ দল ছাড়বে, ততই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। তার দাবি, তৃণমূলের ছাত্র ও যুব কর্মীরাই শূন্যস্থান পূরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি দলত্যাগীদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা বিজেপিতে চলে গেছে এবং তাদের আর দলে ফেরানো হবে না।
এ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিদ্রোহীরা বিজেপির সহায়তায় তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ফুল’ নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা-সভানেত্রী হিসেবে সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
সমাবেশে তিনি আরও ঘোষণা দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সফর শুরু করবেন।