
রাজবাড়ীতে স্বামীর দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
তানিয়া খাতুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মো. মেহেদী হাসান।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সাথে পারিবারিক সম্মতিতে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ব্যাংকে জমা রাখার জন্য স্ত্রী তানিয়ার কাছে ৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ওই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে তিনি নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন স্বামী।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তী সময়ে তানিয়া আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন পান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় সোমবার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তানিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ১৬ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
বাদী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও সফল হননি। বাধ্য হয়ে যৌতুক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আপস কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তানিয়া খাতুন বা তার আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।