মাসখানেক আগে এক কালবৈশাখী ঝড়ে নিজের একমাত্র টিনের ঘরটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায় অসহায় আয়েশা বেগমের। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তার এই অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিন্দু রক্তদান ও সমাজসেবা সংগঠন’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ওমর ফারুকের উদ্যোগে প্রথমে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে তিনি আয়েশা বেগমকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়েশা বেগমের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।
আয়েশা বেগম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপাড়া কসাইটারি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীহারা আয়েশার দুই ছেলে সন্তান থাকলেও তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় মায়ের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত আয়েশা বেগম বলেন, ঝড়ে আমার একমাত্র ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর খুব কষ্টে দিন কাটছিল। বিন্দুর সহযোগিতায় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা আমার জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের সবাইকে ভালো রাখুন। আমি তাদের জন্য সবসময় দোয়া করি।
‘বিন্দু রক্তদান ও সমাজসেবা সংগঠন’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। আয়েশা বেগম ঝড়ে ঘর হারিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তার মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদের ব্যবস্থা করতে। ভবিষ্যতেও আমাদের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যারা এই মানবিক কাজে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শারেখ খন্দকার জয়, ইশরাত জাহান সুইটিসহ ‘বিন্দু রক্তদান ও সমাজসেবা সংগঠন’-এর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাগর, সদস্য সবুজ,আশিকুর রহমান, নাঈম, মুন্না, শাহিন, সজিব, নাহিদ, ওসমান, মিশুক উপস্থিত ছিলেন।