রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) অবকাঠামোগত মানোন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ১,৬৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের এই নবগঠিত সিটি করপোরেশনের সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে ৬৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং অনুদান হিসেবে ৪৬২ কোটি ৮২ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে। অবশিষ্ট ৪৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রসিক-এর নিজস্ব তহবিল থেকে বহনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও কাজের পরিধি
স্থায়িত্বশীল পরিকাঠামো ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের আওতায় যেসকল কাজ করা হবে:
পিইসি সভার পর্যবেক্ষণ ও পরিবর্তনের সুপারিশ
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
১. বাস্তবায়ন মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ: প্রস্তাবিত মূল মেয়াদকাল পরিবর্তন করে সময়সীমা জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২. নিজস্ব তহবিলের অংশ কমানো: রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে রসিক-এর নিজস্ব অর্থায়নের ৪৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অংশটি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস বা কমানোর সুপারিশ করা হয়।
৩. প্রশাসনিক ব্যয় সংমোচন: কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেন বাবদ ৫.৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব কমিয়ে ২ লাখ টাকা করা এবং পাঁচটি মোটরসাইকেলের পরিবর্তে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি ১.৪০ লাখ টাকা দরে দুটি মোটরসাইকেল কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্যতা ডিপিপিতে স্পষ্টকরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ জানান, উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত এই অঞ্চলে স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে প্রকল্পের গুণগত মান রক্ষা ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে প্রারম্ভিক পর্যায় থেকেই কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্পটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।