জনডাক ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই, পরে তিস্তা মরে! * ‘সরকার আইসে, সরকার যায়-হামার আশা পূরণ হয় না’

তিস্তাপারে বসবাস জবের আলীর। ২০২০ সালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের অংশবিশেষ ভেঙে গেলে তিস্তার গর্ভে চলে যায় খিতাবখা গ্রামের এই ৮৫ বছরের বৃদ্ধের ভিটে। এরপর থেকে বাঁধের ধারে মাথা গুঁজে আছেন তিনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ ফুঁসে ওঠা তিস্তার তোপে ফের বিলীন হয়েছে ক্রসবাঁধের অংশবিশেষ। এতে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে জবের আলীর চোখে-মুখে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখা এই প্রবীণ ভেবেছিলেন, এবার নদী খনন ও পাড় বাঁধার মাধ্যমে তিস্তাকে বাগে আনা হবে। সুরক্ষিত হবে ভিটেমাটি। চাষাবাদ করে জীবনধারণ করতে পারবেন তারা।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে এখন আর ভরসা করতে পারছেন না তিনি। জবের আলী বলেন, ‘এই তিস্তা হামার দুঃখ। যখন ব্যারাজের গেট ছাড়ি দেয়, নদী পাক দেয়, ডুকরি ওঠে। হামার বুক কাঁপে। চপুর আইত নিন্দ হয় না (সারা রাত ঘুম ধরে না)। শুনি বোলে তিস্তা বাইন্ধবে। সগাই (সবাই) আশা দেয়, কাম হয় না।’

৩০ বছর আগে ভিটে হারিয়ে বাঁধের ধারে বসত গড়েছেন রাজারহাটের তিস্তাপারের রামহরি গ্রামে আব্দুল মজিদ। তাও এখন তিস্তার চোখ রাঙানিতে বিপন্ন। ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। মহাপরিকল্পনা তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু ভরসা পাচ্ছেন না তিনি। হতাশ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরি শুনি নদী খুঁড়বে, পাড় বাইন্ধবে। সরকার আইসে, সরকার যায়-হামার আশা পূরণ হয় না।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিস্তাপারে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ নামে বড় আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ। মশাল মিছিল ও গানের সুরে জেগে উঠেছিল তিস্তাপার। তবে সেই আন্দোলনের সফলতা নিয়ে সংশয় কাটেনি। খিতাবখা গ্রামের গৃহবধূ মমতা বেগম বলেন, ‘ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই। ভোট বের হইলে তিস্তা মরে।’

রাজারহাটের গতিয়াশাম, রামহরি, খিতাবখা, গাবুরহেলান, ডাংরা, রতি, উলিপুরের ঠুটাপাইকর, হোকডাঙা ও চিলমারীর চর বজরা-সব গ্রামেই ভাঙন আতঙ্ক। অনেক গ্রাম শুধু নামেই টিকে আছে। বেশির ভাগই চলে গেছে তিস্তার গর্ভে। বাকি অংশের মানুষও ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

কয়েকদিন আগে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে ভাটির দিকে ৮-১০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ করছে। নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ পলাশপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধানিজমি বিলীন হচ্ছে। হাসারপাড় এলাকার উজান ও ভাটিতেও প্রতিনিয়ত ভাঙন চলছে।

তিস্তাপারের মানুষের দাবি, দীর্ঘদিন খনন না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে মে থেকে অধিকাংশ সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকছে। এতে কুড়িগ্রামের অংশের ২০ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে তিস্তার আরও ৫-৬টি পয়েন্ট ভাঙনপ্রবণ। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সেসব পয়েন্টেও ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হবে

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়কের পাশে বা নির্জন স্থানে যানবাহন না রাখার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির

সড়কের পাশে বা নির্জন স্থানে যানবাহন না রাখার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির

কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

মাংস কাটাতে গিয়ে এক গ্রামে ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ

অপ্রতিম হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

আমি বাঁচব ক্যামনে, আমার তো ছেলে একটাই: অপ্রতিমের মা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘Human Rights: From Theory to Practice’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ববির যশোর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে রিয়ন-শাহরিয়ার

রংপুর দলিল লেখক সমিতির ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

১০

রাজবাড়ী জেলা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (ববি)-এর সভাপতি রনি ও সম্পাদক প্রীতম

১১

নড়াইলের লোহাগড়া রেললাইন ও পল্লী বিদ্যুতের চোরাইকৃত তামার তার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

১২

জানি না, অপ্রতিমের মাকে কী জবাব দেব: এমপি মনিরুল

১৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার

১৪

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি

১৫

কাউনিয়ার নাজমুল সরদার’র মৃত্যুতে খাদ্যগুদাম ও মিল মালিকদের মাঝে শোকের ছায়া

১৬

মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে

১৭

অধিকার আদায় না হলে, এক দফার দিকে অগ্রসর হব: নাহিদ ইসলাম

১৮

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু

১৯

সরকার তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ, এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে

২০