কুড়িগ্রাম জেলা শহরসহ প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফুটপাত গিলে খেয়েছে অবৈধ ফলের দোকানসহ নানা স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর ওপর আবার সড়কের একাংশজুড়ে অটোরিকশা ও মিশুকের অনিয়ন্ত্রিত সিরিয়ালের কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে শহরজুড়ে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর এলাকায় এই ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পথচারীদের চরম ভোগান্তি ও শঙ্কা: অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফুটপাতে হাঁটার বিন্দুমাত্র উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ততম মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান সড়কে এভাবে গাড়ি ও মানুষের জটলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মসজিদের নামে ফুটপাতে চাঁদাবাজি!
অনুসন্ধানে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সরকারি ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর নেপথ্যে কাজ করছে স্থানীয় মসজিদ কমিটি! এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাফ জানান, মসজিদের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ফান্ড না থাকায় পরিচালনা ও উন্নয়নের স্বার্থে কমিটির সিদ্ধান্তেই ফুটপাতে এই দোকানগুলো বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি দোকান থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে ফাণ্ডে নেওয়া হয়।
নেতৃবৃন্দের জোরালো বক্তব্য ও ক্ষোভ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মুকুল মিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “মসজিদের উন্নয়নের জন্য কি ফুটপাত দখল করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে হবে? মসজিদের ফান্ডের জন্য মানুষ দান করবে, সরকারি অনুদান নেওয়া যাবে। তাই বলে জনগণের হাঁটার ফুটপাত বেচে চাঁদা তোলা কোন ধরনের বিচার? কাল যদি এই ব্যস্ত রাস্তায় কোনো পথচারী গাড়ি চাপা পড়ে মারা যায়, তবে তার দায় এই মসজিদ কমিটি আর পৌরসভা নেবে?
এদিকে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল রহমান জুয়েল কুড়িগ্রাম পৌরসভার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “শহরের শাপলা চত্বরসহ প্রধান সড়কগুলোর এই করুণ অবস্থার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী কুড়িগ্রাম পৌরসভার চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। ফুটপাত উদ্ধার এবং রাস্তার ওপর অবৈধ অটোরিকশার সিরিয়াল বন্ধে পৌরসভার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা শহরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
জনগণের প্রাণের দাবি ও সমাধান: স্থানীয় সুশীল সমাজ, সচেতন নাগরিক ও সাধারণ পথচারীদের একটাই কথা—জনগণের স্বার্থে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব এই ফুটপাতের অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। তবে একই সাথে হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যাতে রুটি-রুজিতে টান না পড়ে, সেজন্য তাদের কোনো সরকারি খাস বা বিকল্প জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং কুড়িগ্রামের প্রধান সড়ক ও শাপলা চত্বর এলাকা যানজট ও দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই এখন কুড়িগ্রামবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।