নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় ৫৯ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেননি।
শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিক কম এবং অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উক্ত প্রতিষ্ঠান ৩টি হলো- ডিমলা জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজ।
ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭ জন শিক্ষকের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন দুজন। আর গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজে ১৭ জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন। তিন প্রতিষ্ঠানের চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান ৩টির কলেজ শাখায় মোট শিক্ষক রয়েছেন ৫৯ জন। বিপরীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র চারজন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থীর এমন স্বল্পতা এবং শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
এ নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা বেগম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, নন-এমপিওভুক্ত এই তিনটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি।
এদিকে, ডিমলা উপজেলার ১৬টি কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৮৩ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন। উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং কলেজ শাখা বিলুপ্ত করার অপচেষ্টার কারণে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। পিন ও পাসওয়ার্ড অন্যদের হাতে থাকায় উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকা সত্ত্বেও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছেন তারা। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।