রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপশ্যামপুর খয়রাতি ছিদ্দিকীয়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার নিজস্ব জমির বাগান থেকে গোপনে ১৬টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সাবেক সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম সূর্য ও ভারপ্রাপ্ত সুপার এটিএম মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসাটির দাতা সদস্য মো. আঃ জলিল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১ অক্টোবর মাদ্রাসার নিজস্ব জমিতে থাকা আমবাগান থেকে ১৪টি আমগাছ, ১টি ইউক্যালিপটাস ও ১টি আকাশমনি গাছ চুরি করে কেটে বিক্রি করেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম (সূর্য) এবং ভারপ্রাপ্ত সুপার মৌলভী এটিএম মাহফুজার রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার জমিতে কাটা গাছের চিহ্ন দেখা যায়। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গাছ কর্তনকারী শ্রমিক আনজারুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়ার সন্ধান পেয়ে তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, মাদ্রাসার সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম সূর্যর নির্দেশে তিনি ও তার সহযোগীরা গাছ কেটে দিয়েছেন। কাটা গাছগুলি সভাপতি সূর্য স্থানীয় বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেছেন। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, এর আগেও মাদ্রাসার জমিতে থাকা বিভিন্ন গাছ কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সুপার এটিএম মাহফুজার রহমান ও সাবেক সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম (সূর্য) মাদ্রাসাটিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং তারা একক আধিপত্য খাটিয়ে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ গ্রাস করছেন।
স্থানীয়রা জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তির গাছ এভাবে কেটে নেয়া হলে তা শুধু পরিবেশের ক্ষতিই নয়, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও সম্ভাব্য আয়ের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না করা হলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার অন্যান্য সম্পদ নিয়েও অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম সূর্যের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। আমি বাসায় গিয়ে এবিষয়ে আপনাদের সাথে কথা বলবো, তার আগে আমি কিছু বলতে চাইনা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার এটিএম মাহফুজার রহমানের সাথে কথা বলার জন্য মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে না পাওয়ায় মুঠোফোনে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ বলেন, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের পরই গাছগুলো কাটার অনুমোদন, বিক্রির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।