লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তার হত্যা মামলায় মো. আতিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাড়ারপাড় মুন্সিটারি এলাকার বাসিন্দা আতিউল ইসলামের সঙ্গে মিতু আক্তারের প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুর সঙ্গে আতিউলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতিউল তাঁকে মারধর করেন এবং শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মিতু মারা গেলে আতিউল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরদিন সকালে পাঁচ মাস বয়সী শিশুর কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ আতিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাঁকে স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন।
তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট এবং মিতুর পরিবারও সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
রায়ের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া আসামি রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
আদালতের এ রায়ে নিহত মিতু আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।