মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, ধীরে ধীরে একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও নৈতিক পরিবর্তন। সেই ভাবনা থেকেই চাঁদপুরের কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।l
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শাহজালাল ও হেলাল নামের দুই ব্যক্তিকে বারবার মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার পরও যখন তারা জামিনে বেরিয়ে একই কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের সংশোধনের জন্য ভিন্ন পথ বেছে নেন ওসি আজিজুল ইসলাম। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের থানায় ডেকে এনে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় এবং থানা সূত্রে জানা গেছে, কচুয়ার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের ওই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মাদক মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। তার উদ্যোগে ওই দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিনের তাবলিগ শেষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজ আদায় করে তারা কচুয়া থানায় এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারা প্রতিশ্রুতি দেন, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং আর কখনো মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত হবেন না।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার মামলা দিয়ে ও জেলে পাঠিয়েও তাদের ঠেকানো যাচ্ছিল না। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক রূপান্তর জরুরি হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ইসলামী নৈতিক শিক্ষার আবহাওয়ায় পাঠানো হয়। তারা অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছে। শুধু সাজা নয়, ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে পুনর্বাসনই এর মূল উদ্দেশ্য।’
তার এই উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি যারা ভুল পথে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া গেলে সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।