ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম। ক্লাসে অনুপস্থিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনতে তিনি নিজে নেমেছেন মাঠে; ছুটছেন শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক দিন ধরে যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে, তাদের তালিকা করে প্রতিদিন নিজ উদ্যোগে অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না আসার কারণ জানছেন, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং পড়ালেখার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাসে ফেরানোর উৎসাহ দিচ্ছেন।
অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমের এই কার্যক্রমে অভিভাবকদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অনেক অভিভাবক জানান, একজন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজে এসে সন্তানের পড়ার খোঁজ নিচ্ছেন—এটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষকের এমন আন্তরিকতায় অভিভাবকরাও সন্তানকে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম বলেন, "কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে ঝরে না পড়ে কিংবা পড়ালেখা থেকে দূরে সরে না যায়, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমার এই চেষ্টা। শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই শেষ কথা নয়, সব শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কি না তা নিশ্চিত করাও আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আশা করছি, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা আবার শ্রেণিমুখী হবে এবং পড়ালেখায় মনোযোগী হবে।"
বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও স্থানীয় সুধীজনও অধ্যক্ষের এই ব্যতিক্রমী ও সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, এই ধরণের পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।